By Editor
প্রকাশিত 1 সপ্তাহ আগে • 3 মিনিট পড়ার সময়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্থায়ী গোয়েন্দা কমিটির শুনানিতে সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুস হফম্যান বলেছেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) হামলার পর গত ২৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো একই মাত্রার বিধ্বংসী সন্ত্রাসী হামলার শিকার না হলেও এটিকে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্ভুলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, ৯/১১-পরবর্তী গোয়েন্দা সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে হামলাটিকে কেবল গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা বাস্তবতাকে পুরোপুরি তুলে ধরে না।
হফম্যান বলেন, ২০০১ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে (প্রেসিডেনশিয়াল ডেইলি ব্রিফ) সতর্ক করা হয়েছিল যে, ওসামা বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেটি ছিল ওই বছরের এমন ৩৬তম সতর্কবার্তা। তার ভাষায়, ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর হামলার আগের অভিজ্ঞতার মতোই এ ঘটনাও প্রমাণ করে যে, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত গোয়েন্দা ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণও কার্যকর হবে না যদি রাজনৈতিক নেতৃত্ব সময়মতো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ৯/১১-এর পর গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবকাঠামো বর্তমানে বাজেট কমানো, জনবল হ্রাস এবং জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের তালিকায় সন্ত্রাসবাদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে ২০০১ সালের হামলার আগে বিদ্যমান অবহেলা ও অপর্যাপ্ত সম্পদের পরিস্থিতি আবারও ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি শুধু রূপ বদলায়নি, বরং আগের তুলনায় আরও বেড়েছে।
হফম্যানের মতে, সবচেয়ে জরুরি কাঠামোগত সমস্যা হলো ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার (এনসিটিসি)। বর্তমানে সংস্থাটির আইনি ক্ষমতা এমনভাবে সীমাবদ্ধ যে, এটি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী হুমকির বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে না। অথচ বিদেশি ও দেশীয় সন্ত্রাসবাদের মধ্যকার সীমারেখা এখন অনেকটাই মুছে গেছে।
তিনি বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জাস্টিস এবং অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের অধিকাংশই ডানপন্থি উগ্রপন্থীদের হামলার শিকার। কিন্তু বিস্ময়করভাবে ২০২৬ সালের জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশলপত্রে এ শ্রেণির হুমকির উল্লেখ নেই।
এ পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হফম্যান বলেন, এনসিটিসির আইনি ক্ষমতা পুনর্বিবেচনা করে দেশীয় সন্ত্রাসবাদকেও এর বিশ্লেষণ ও সমন্বয় কার্যক্রমের আওতায় আনা উচিত। তবে এ ধরনের ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে অবশ্যই নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার শক্তিশালী ব্যবস্থা এবং কংগ্রেসের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, নতুন এজেন্টদের প্রশিক্ষণের সময় ২১ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ১৬ সপ্তাহ করা হয়েছে, যা ৯/১১-পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের উদ্যোগকে পিছিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি মানব গোয়েন্দা সক্ষমতা এখনও পর্যাপ্ত নয় এবং মাঠপর্যায়ে এজেন্ট ও বিশ্লেষকদের পূর্ণাঙ্গ সমন্বয়ও নিশ্চিত করা যায়নি।
হফম্যান বলেন, সন্ত্রাসবাদ এখন আর আগের মতো সংবাদ শিরোনামে না থাকলেও এর হুমকি কমে যায়নি। বরং ৯/১১-এর সময়ের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি এবং আরও বৈচিত্র্যময় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব হুমকি এখন বিদেশের পাশাপাশি দেশের ভেতর থেকেও আসছে।
তিনি সাবেক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল জেমস এন. ম্যাটিস-এর ২০১৩ সালের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “শত্রু যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধই শেষ হয় না। আমরা যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে ভাবতে বা ঘোষণা দিতে পারি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শত্রুরও সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার থাকে।”
হফম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা স্পষ্টভাবেই এ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যেকোনো সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জনবল, আইনি ক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ন রাখা অপরিহার্য।
মন্তব্য ফিড 0
ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটিতে যোগ দিন
কথোপকথনে অংশ নিতে এবং আপনার মতামত শেয়ার করতে লগইন করুন।
রিভিউ করতে লগইন