যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তিতে এআই ও প্রযুক্তি জায়ান্টদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা
News

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তিতে এআই ও প্রযুক্তি জায়ান্টদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা

"যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির বিকাশে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অবদান নতুন কিছু নয়—বরং কয়েক দশক ধরে এ সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের প্রসার এই সম্পর্ককে আরও জটিল ও বিতর্কিত করে তুলেছে।"

Author

By Editor

প্রকাশিত 1 মাস আগে • 3 মিনিট পড়ার সময়

এআই ও সামরিক অভিযানে নতুন মাত্রা

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উন্নত এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। এসব প্রযুক্তি বিপুল পরিমাণ তথ্য কয়েক সেকেন্ডে বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারের ভাষায়, এই প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা এনে দেয়।

বিগ ল্যাংগুয়েজ মডেল (এলএলএম) এখন সামরিক ক্ষেত্রে লেখা বিশ্লেষণ, অনুবাদ, সারসংক্ষেপ তৈরি এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবে, এগুলো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আঘাত করতে সক্ষম।

বিতর্ক: প্রযুক্তির অপব্যবহার ও নৈতিকতা

মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের একটি অভিযানে অ্যানথ্রোপিকের তৈরি এআই মডেল “ক্লড” ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও কোম্পানিটির নীতিমালায় নজরদারি, অস্ত্র উন্নয়ন বা সহিংস কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে প্যালান্টির টেকনোলজিস, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে, অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে অংশীদারত্বে রয়েছে। তবে নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পেন্টাগন সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিককে কালোতালিকাভুক্ত করেছে বলে জানা গেছে।

প্যালান্টিরের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংস্থা এনএইচএসের জন্য ডেটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার পাশাপাশি কোম্পানিটি ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থায় প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে—যা গাজা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সামরিক প্রকল্প থেকেই ইন্টারনেটের সূচনা

আজকের ইন্টারনেটের উৎপত্তিও সামরিক গবেষণায়। শীতল যুদ্ধের সময় নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তৈরি হয়েছিল আরপানেট। পরবর্তীতে এই নেটওয়ার্ক থেকেই আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

প্রযুক্তি ও সামরিক সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সামরিক প্রকল্পে যুক্ত। সে সময় আইবিএম ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নির্ধারণে ব্যবহৃত উচ্চগতির ক্যালকুলেটর তৈরি করেছিল।

পরবর্তীতে জিপিএস প্রযুক্তিও প্রথমে সামরিক প্রয়োজনে তৈরি হয়, যা ১৯৯০–৯১ সালের গালফ যুদ্ধে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হয়। আজ এটি বেসামরিক জীবনের অপরিহার্য অংশ।

সিলিকন ভ্যালি ও পেন্টাগনের সম্পর্ক

ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও শীতল যুদ্ধের সময় ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টর এবং হিউলেট-প্যাকার্ডের মতো কোম্পানিগুলো পেন্টাগন ও নাসার সঙ্গে কাজ করে রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশনা ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছিল।

সিআইএর অর্থায়নে গড়ে ওঠা প্যালান্টিরের “গোথাম” সফটওয়্যার ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ সরঞ্জাম হয়ে ওঠে।

আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি উদ্যোগ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে:

২০১৭ সালে “প্রজেক্ট মেভেন”-এ গুগলের এআই ব্যবহার করে ড্রোন ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়
মাইক্রোসফটের তৈরি আইভিএএস হেডসেট সৈন্যদের পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা বাড়ায়
* অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS) পেন্টাগনের ক্লাউড অবকাঠামো পরিচালনা করছে
* ইলন মাস্কের স্পেসএক্স “স্টারশিল্ড” নামের সামরিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে

প্রযুক্তি কোম্পানি ও সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক ইতিহাসের অংশ হলেও, এআই প্রযুক্তির বিস্তার এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে এর সঙ্গে বাড়ছে নৈতিক প্রশ্ন, স্বচ্ছতা সংকট এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: আল-জাজিরা

মন্তব্য ফিড 0

🔒
ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটিতে যোগ দিন

কথোপকথনে অংশ নিতে এবং আপনার মতামত শেয়ার করতে লগইন করুন।

রিভিউ করতে লগইন
এখনও কোনো ইন্টেলিজেন্স রিভিউ প্রকাশিত হয়নি। প্রথম আপনার মতামত শেয়ার করুন।