By Editor
প্রকাশিত 1 মাস আগে • 2 মিনিট পড়ার সময়
ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পাদিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি ‘রেলোস’ কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশ এখন থেকে একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করতে পারবে, যা সামরিক সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রেলোস চুক্তি কী
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোতে স্বাক্ষরিত এবং ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার পার্লামেন্টে অনুমোদিত ‘রিসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অব লজিস্টিকস সাপোর্ট’ বা রেলোস চুক্তি ১২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ভারত ও রাশিয়া একে অপরের সামরিক ঘাঁটি, নৌবন্দর এবং আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে। শান্তিকাল ও যুদ্ধকাল—উভয় পরিস্থিতিতেই এই সুবিধা প্রযোজ্য।
চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ সর্বোচ্চ ৩০০০ সেনা, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করতে পারবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তি পরবর্তীতে পারস্পরিক সম্মতিতে নবায়নযোগ্য। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা বিশেষ করে রুশ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারে ভারতের জন্য সুবিধাজনক হবে।
রাশিয়ার দৃষ্টিতে গুরুত্ব
শীতল যুদ্ধকাল থেকেই ভারত রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদার। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার জন্য এই চুক্তি নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাশিয়াকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই চুক্তি কোনও সামরিক জোট নয়; বরং নিষেধাজ্ঞার সময়কালে রাশিয়ার জন্য একটি কার্যকর গতিশীল সহায়তা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে রাশিয়ার নৌবাহিনী দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে পারবে।
ভারতের কৌশলগত লাভ
ভারতের জন্য এই চুক্তি প্রতিরক্ষা আমদানি নির্ভর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর সামরিক সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ। এর ফলে ভারত রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চল ও দূরপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আর্কটিক অঞ্চল পর্যন্ত ভারতের প্রবেশাধিকার বাড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারসাম্য নীতি
ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনও বিদেশি শক্তিকে নিজ ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের সুযোগ দেওয়া হলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের লজিস্টিকস চুক্তি থাকলেও সেখানে সরাসরি সেনা মোতায়েনের অনুমতি ছিল না।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলেরই অংশ, যেখানে কোনও পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য পক্ষের বিপরীতে দাঁড় করানো হচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, রেলোস চুক্তি শুধু দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে গভীর করছে না, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও নতুন মাত্রা যোগ করছে।
মন্তব্য ফিড 0
ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটিতে যোগ দিন
কথোপকথনে অংশ নিতে এবং আপনার মতামত শেয়ার করতে লগইন করুন।
রিভিউ করতে লগইন