By Editor
Published 1 year ago • 0 min read
বিশ্বের সামরিক শক্তির ভারসাম্য আজ শুধু পরমাণু বোমা কিংবা আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বিশেষ করে ‘ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন’ বা ডিইডব্লিউয়ের বিকাশ যুদ্ধক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই প্রযুক্তির অন্যতম আবিষ্কার হলো লেজার অস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী আলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। এক সময় এ অস্ত্র কল্পবিজ্ঞান সিনেমায় সীমাবদ্ধ থাকলেও, আজ বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতাকে গ্রহণ করে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে ইরান। ইরানের লেজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির গবেষণা, ব্যবহার, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সাজানো এ প্রতিবেদন।
লেজার অস্ত্র কীভাবে কাজ করে
লেজার অস্ত্রকে সাধারণত বলা হয় ডিইডব্লিউ বা ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন। এটি মূলত একটি উচ্চমাত্রার ফোকাসড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে শক্তি পাঠিয়ে তা গলিয়ে ফেলতে সক্ষম। এতে গোলা-বারুদের প্রয়োজন হয় না। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলো নির্গত করে এ ধরনের অস্ত্র একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে ধাতব বস্তু, ড্রোন, সেন্সর, রাডার সহজেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এই অস্ত্র ব্যবহারে অত্যাধুনিক সেন্সর, এআই গাইডেড ট্র্যাকিং, সলিড স্টেট ফাইবার লেজার প্রযুক্তি, বিম কম্বাইনিং সিস্টেম ও অটোমেটেড ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেমের প্রয়োজন পড়ে। লেজার অস্ত্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আঘাত করা যায়, গোলাবারুদের খরচ লাগে না এবং পুরোপুরি নীরব (সাইলেন্ট) অপারেশন।
ইরানের লেজার অস্ত্রের ইতিহাস
ইরানের লেজার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হয় ১৯৭০ এর দশকে। দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে লেজার গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর থেকে গ্যাস লেজার, সেমিকন্ডাক্টর লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেজার তৈরিতে ধারাবাহিক উন্নতি ঘটাতে থাকে দেশটি। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং ২০২০ সালে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন লেজারের সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ইরান বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি লেজার প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশের কাতারে চলে আসে। এরপর ২০২২ সালে তারা পরীক্ষামূলকভাবে ‘বিনা’ নামের লেজার-নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে। ইরান কেবল প্রতিরক্ষা নয়, লেজার প্রযুক্তিকে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করেও সামরিক সিস্টেম শক্তিশালী করছে।
‘সাইলেন্ট হান্টার’ ও ‘সুরুজ ’
ইরানের অন্যতম লেজার প্রতিরক্ষা সিস্টেম হলো ‘সাইলেন্ট হান্টার’। চীনের পলি টেকনোলজিস কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই সিস্টেমের ক্ষমতা ২০-৩০ কিলোওয়াট এবং এটি ২-৪ কিলোমিটার রেঞ্জে কার্যকর। ছোট ড্রোন, এফপিভি ড্রোন ও সার্ভিলেন্স ইউএভির বিরুদ্ধে এটি খুবই কার্যকর। এটি এইএসএ রাডার ও অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সেন্সরের মাধ্যমে টার্গেট শনাক্ত করে এবং নিঃশব্দে ধ্বংস করে দেয়। অন্যদিকে, ‘সুরুজ’ হচ্ছে ইরানের নিজস্বভাবে তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা লেজার সিস্টেম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এটি প্রথমবারের মতো বৃহৎ সামরিক মহড়ায় ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত আকাশপথে আক্রমণকারী শত্রু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সংবেদনশীল অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
প্রযুক্তির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
লেজার অস্ত্রের অন্যতম বড় সুবিধা হলো- আলো গতির অস্ত্র হওয়ায় শত্রু প্রতিক্রিয়া জানানোর আগেই ধ্বংস হয়। গোলাবারুদ, মিসাইল ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। এতে খরচ কম। এই অস্ত্রের অপারেশনে কোনো শব্দ নেই। একাধিকবার ফায়ার করা যায়, পুনরায় লোডের প্রয়োজন পড়ে না। তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে: বৃষ্টি, কুয়াশা, ধোঁয়ার কারণে লেজার কার্যকারিতা কমে যায়। খুব দূরের টার্গেট আঘাত করা সম্ভব হয় না। এটি পরিচালনায় অত্যন্ত শক্তিশালী পাওয়ার সাপ্লাই লাগে।
কৌশলগত গুরুত্ব
ইরানের এই অগ্রগতি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের শত্রুপক্ষগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লেজার প্রযুক্তি ইরানের জন্য এক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ড্রোন ওয়ারফেয়ারে বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল অল্প খরচে ছোট ড্রোন ব্যবহার করে টার্গেট করে থাকে, তখন ইরানের লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই আক্রমণ রুখে দিতে সক্ষম। এতে যুদ্ধ ব্যয় কমে, পাল্টা আঘাত সম্ভব হয় এবং সর্বোপরি আত্মরক্ষার একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায় পাওয়া যায়।
ইরানের নিজস্ব অবস্থান
Despite longstanding sanctions and diplomatic pressure on many countries, Iran has made significant progress in laser technology. Iran is increasing its own capabilities by exchanging technical assistance with countries like China, South Korea or Russia. Iran is now emerging not only as a regional power, but as an emerging international power in the technology-based defense sector. An example of this is their participation in international exhibitions, research programs and the successful application of technology in actual warfare.
Iran's preparations
Laser technology is important not only for military systems, but also for medical, industrial, energy and environmental protection. Iran has also strengthened research on these issues. In the future, Iran seeks to strengthen its position globally by using laser technology in civil and dual-use applications. Analysts say Iran's development of a laser weapon system will bring about a silent revolution in the battlefield. This has added a new dimension to the defense equation not only of Iran but of the entire world. This weapon of military technology is changing the future of warfare and defense.
Comments Feed 0
Join the Intelligence Community
Please log in to participate in the conversation and share your insights.
Log In to Review