By Editor
Published 1 year ago • 0 min read
বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনীর মালিক চীন বর্তমানে একটি বিশাল পরমাণু-চালিত বিমানবাহী রণতরী তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম রণতরীগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। নতুন স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করার পর পাঁচজন বিশ্লেষক এনবিসি নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
উত্তর-পূর্ব চীনের দালিয়ান জাহাজ নির্মাণ কারখানার স্যাটেলাইট চিত্রগুলো দেখায় যে, নতুন রণতরীটি বিমানের উড্ডয়নের জন্য ফ্লাইট ডেকের চারটি অংশ ব্যবহার করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের বিদ্যমান যে কোনো রণতরীর তুলনায় নতুন একটি নকশার ইঙ্গিত দেয়।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া চিত্রগুলো ম্যাক্সার টেকনোলজিস সরবরাহ করেছে, যা মার্কিন সরকারের সঙ্গে কাজ করা একটি প্রতিরক্ষা সংস্থা।
বর্তমানে চীনের তিনটি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে, যেগুলো কেবলমাত্র সামনের ও মধ্যবর্তী তিনটি অংশ থেকে বিমান উৎক্ষেপণ করতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক মাইকেল ডুইটসম্যান বলেন, চীনের সর্বশেষ সুপারক্যারিয়ার ফুজিয়ান (টাইপ ০০৩) তিনটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট লঞ্চিং সিস্টেম ব্যবহার করে বিমান উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি সুপারক্যারিয়ার রয়েছে, যেগুলো চারটি জায়গা থেকে বিমান উৎক্ষেপণ করতে পারে।
ডুইটসম্যান বলেন,“আমরা মনে করছি, এটি টাইপ ০০৪ রণতরীর জন্য পরীক্ষামূলক সরঞ্জাম ও বিন্যাস পরীক্ষা করার একটি পদক্ষেপ।”
তিনি বলেন, সাধারণভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে নতুন রণতরীতে চারটি ক্যাটাপল্ট থাকবে, যা আরও বেশি বিমান উৎক্ষেপণ করতে সহায়তা করবে এবং মার্কিন রণতরীগুলোর মতো সক্ষমতা অর্জন করবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চারটি ক্যাটাপল্ট স্থাপনের জন্য রণতরীটি ফুজিয়ানের তুলনায় বড় হতে হবে এবং এটি পরমাণু শক্তিচালিত হবে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দালিয়ান কারখানায় একটি প্রকৌশলগত প্রোটোটাইপ দেখা গেছে, যাতে দুটি ট্র্যাক বা খাঁজ রয়েছে।
স্বাধীন নৌবাহিনী বিশ্লেষক এইচ. আই. সাটন বলেন, “এই ট্র্যাকগুলো স্পষ্টতই ক্যাটাপল্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এটি মূল রণতরী নয়, বরং ইঙ্গিত দেয় যে চীন নতুন রণতরী নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
চীন আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন সুপারক্যারিয়ার প্রকল্পের কথা স্বীকার করেনি। ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, চীনের প্রতিরক্ষা নীতি “সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক”।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সম্প্রতি ন্যাটো নেতাদের বলেছেন যে, ইউরোপে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বাড়ানো উচিত, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা চীনের সঙ্গে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে রয়েছি, যা আমাদের মাতৃভূমি ও জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি হতে পারে।”
ডুইটসম্যান বলেন, চীন নতুন রণতরী নির্মাণের আগে পরীক্ষামূলক অংশ তৈরি করে, যা ফুজিয়ানের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে।
নভেম্বরে, মিডলবেরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষকরা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানান যে চীন একটি পরমাণু নৌবাহিনী রিঅ্যাক্টরের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে, যা সুপারক্যারিয়ারের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
সাংহাইভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক নি লেক্সিয়ং বলেন, “চীন এক বা দুটি পরমাণু চালিত বিমানবাহী রণতরী নির্মাণে সমস্যা দেখছে না,” তবে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ বলেন, চীন কখনোই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না, তবে তাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে এবং যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
Comments Feed 0
Join the Intelligence Community
Please log in to participate in the conversation and share your insights.
Log In to Review