By Editor
Published 1 year ago • 0 min read
মস্কোর অন্যতম শক্তিশালী মিত্র সার্বিয়াকে রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার বেশ কয়েকটি চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সার্বিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মিলান মোজসিলোভিচ।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে মস্কো জর্জরিত হওয়ায় বেলগ্রেড এখন ইসরায়েল এবং চীনের মতো অন্যান্য দেশ থেকে, এমনকি পশ্চিম থেকেও সামরিক সরঞ্জাম কিনছে।
মোজসিলোভিচ স্থানীয় দৈনিক ভেচেরঞ্জে নভোস্টিকে বলেন, “রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে অস্ত্র সরবরাহ বর্তমানে কার্যত অসম্ভব। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সদ্য তৈরি হওয়া পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।”
মোজসিলোভিচ পরোক্ষভাবে ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা কিছু চুক্তি বাতিল করেছি এবং কিছু স্থগিত করেছি এই আশায় যে বৈশ্বিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”
তবে তিনি এটা জানাননি যে বেলগ্রেড কোন ধরণের অস্ত্রের চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জেনারেল বলেন, “সার্বিয়ার সামরিক বাহিনী মস্কোর উপর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সোভিয়েত এবং রাশিয়ার নকশার সরঞ্জামগুলোর জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের একটি টেকসই এবং নমনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছে।”
ন্যাটোর বাইরে থাকা এবং সামরিক নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করার পাশাপাশি, সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচ বলেছিলেন, তার দেশ ইইউ সদস্য হওয়ার প্রচেষ্টা “ত্বরান্বিত” করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পশ্চিমের প্রতি এই সূক্ষ্ম নীতি বেলগ্রেডকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, একই সাথে ইউরোপীয় সংস্থাগুলোকে বড় সামরিক চুক্তি প্রদান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স থেকে সার্বিয়ার ১২টি রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয়।
এদিকে, সার্বিয়ান সরকার ইসরায়েলের সাথে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে, ইসরায়েলের এলবিট সিস্টেমস ঘোষণা করেছে যে তারা প্রায় ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের চুক্তি পেয়েছে একটি ইউরোপীয় ক্লায়েন্টকে পালস রকেট আর্টিলারি সিস্টেম এবং হার্মিস ৯০০ ড্রোন সরবরাহের জন্য।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এই চুক্তিগুলো সার্বিয়ার কাছ থেকে এসেছে, যারা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে গোলাবারুদ সরবরাহ করে থাকে।
একই সময়ে, সার্বিয়ান কর্তৃপক্ষ চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে। বেলগ্রেড সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে চীনে তৈরি এফকে-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন দেশটির বিমান বাহিনীর অধীনে কাজ করছে।
সূত্র: ডিফেন্স নিউজ
Comments Feed 0
Join the Intelligence Community
Please log in to participate in the conversation and share your insights.
Log In to Review