By Editor
প্রকাশিত 9 মাস আগে • 2 মিনিট পড়ার সময়
উত্তর কোরিয়া তাদের সর্বাধুনিক ও সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘হোয়াসং–২০’ উন্মোচন করেছে, যা দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়ার উন্নত বিভিন্ন অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়—যার মধ্যে ছিল দীর্ঘপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও লঞ্চ যান। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে ১১-অ্যাক্সেল লঞ্চার ট্রাকে স্থাপিত হোয়াসং–২০ আইসিবিএম, যেটিকে দেশটির সামরিক বাহিনীর “সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
কিছু সপ্তাহ আগেই উত্তর কোরিয়া একটি নতুন সলিড-ফুয়েল রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষার ঘোষণা দেয়। কেসিএনএ জানায়, কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি এই ইঞ্জিনটি ১,৯৭১ কিলোনিউটন পর্যন্ত শক্তি উৎপাদনে সক্ষম—যা এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিন বলে দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক কার্নেগি এন্ডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশ্লেষক অঙ্কিত পান্ডা বলেন, “হোয়াসং–২০ উত্তর কোরিয়ার দূরপাল্লার পারমাণবিক সক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হোয়াসং–২০ একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম—যা শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সাহায্য করবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান মিসাইল প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
অঙ্কিত পান্ডা আরও বলেন, “এই ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলতে পারে এবং কিম জং উনের দৃষ্টিতে এটি হবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এক কার্যকর প্রতিরোধ শক্তি।”
কুচকাওয়াজ শেষে দেওয়া ভাষণে কিম জং উন বলেন, “আজ আমরা এমন এক শক্তিশালী জাতি, যাকে কোনো বাধা থামাতে পারবে না। উত্তর কোরিয়া এখন সমাজতান্ত্রিক শক্তির বিশ্বস্ত সদস্য এবং পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার এক দূর্গ।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ–প্রধান ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দিমিত্রি মেদভেদেভ।
সূত্র: আল-জাজিরা
মন্তব্য ফিড 0
ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটিতে যোগ দিন
কথোপকথনে অংশ নিতে এবং আপনার মতামত শেয়ার করতে লগইন করুন।
রিভিউ করতে লগইন