By Editor
প্রকাশিত 4 মাস আগে • 4 মিনিট পড়ার সময়
স্পাই কী, কে, কত প্রকার
গুপ্তচর বা স্পাই হলো সেই ব্যক্তি, যে গোপনে অন্য রাষ্ট্র, সংগঠন বা শক্তির জন্য তথ্য সংগ্রহ করে। একজন সাধারণ গুপ্তচর একসময় ডাবল এজেন্টেও পরিণত হতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আলড্রিচ এমেস সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে গোপন তথ্য পাচার করতেন। প্রাচীন চীনা রাজনৈতিক চিন্তাবিদ সান জু তার ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ গ্রন্থে বলেছেন, যুদ্ধ জয়ে গুপ্তচর অপরিহার্য।
স্পাই হ্যান্ডলার হলো সেই ব্যক্তি, যে গুপ্তচরকে নির্দেশ দেয়, তার কাছ থেকে তথ্য গ্রহণ করে এবং যোগাযোগ রক্ষা করে। সোভিয়েত গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওলেগ পেঙ্কোভস্কি যখন পশ্চিমাদের জন্য তথ্য দিতেন, তখন এমআই৬ ও সিআইএর কর্মকর্তারা তার হ্যান্ডলারের ভূমিকা পালন করতেন।
স্পাই নেটওয়ার্ক হলো কয়েকজন গুপ্তচর, হ্যান্ডলার এবং সহায়কদের একটি সংগঠিত দল, যারা একসঙ্গে তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘রেড অর্কেস্ট্রা’ ছিল একটি বড় সোভিয়েত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক, যা নাৎসি জার্মানির ভেতর থেকে তথ্য সংগ্রহ করত।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা কীভাবে গোয়েন্দা সংস্থার জন্য কাজ করেন
প্রখ্যাত ব্রিটিশ স্পাই থ্রিলার লেখক জন লি কারে নিজে এমআই৬-এর গুপ্তচর ছিলেন। তার লেখায় গুপ্তচর নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা বারবার ফুটে উঠেছে।
কিছু শিক্ষক মেধাবী, ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন, শান্ত স্বভাবের বা আন্তর্জাতিক বিষয়ে আগ্রহী ছাত্রদের চিহ্নিত করেন। পরে তাদের নাম গোপনে গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়। কখনো শিক্ষক ছাত্রকে বলেন, “সরকারের একটি গবেষণা বা কূটনৈতিক কাজ আছে, আগ্রহী কি না?” এভাবে ধীরে ধীরে তাদের দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষকরা ছাত্রের চরিত্র, মেধা ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সুপারিশ দেন। ঐতিহাসিকভাবে কেমব্রিজ-অক্সফোর্ডে এমনটা ঘটেছে। অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত আর্নল্ড ডশ ১৯৩০-এর দশকে সোভিয়েত এনকেভিডির হয়ে কেমব্রিজে ছাত্র খুঁজে বের করতেন, যেখান থেকে পরবর্তীতে তৈরি হয় ‘কেমব্রিজ ফাইভ’।
কিছু শিক্ষক সরাসরি গুপ্তচর নন। কিন্তু তারা মেধাবী ছাত্রদের শনাক্ত করে গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দেন—এটাই ‘ট্যালেন্ট স্পটিং’। পরে সংস্থার কর্মকর্তারা সেই ছাত্রদের রিক্রুট করার চেষ্টা করেন।
বিদেশি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক
গোয়েন্দা ইতিহাসে একটি পরিচিত পদ্ধতি হলো বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা বৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য লোক চিহ্নিত করা। এটি সব সময় আনুষ্ঠানিক নীতি নয়, কিন্তু বাস্তব ঘটনায় দেখা গেছে যে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং বৃত্তি-নেটওয়ার্ক ট্যালেন্ট স্পটিংয়ের পরিবেশ তৈরি করে।
ব্রিটিশ কাউন্সিল মূলত ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় চালায়। কিন্তু ব্রিটিশ গোয়েন্দা ইতিহাস নিয়ে লেখা কিছু বইয়ে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্ক বিদেশে সম্ভাব্য প্রতিভাবান ছাত্রদের খুঁজে বের করার একটি সামাজিক পরিসর তৈরি করত। পরে সেই ছাত্রদের কেউ কেউ ব্রিটিশ সরকারি সেবায় বা গোয়েন্দা সংস্থায় যুক্ত হতো।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোর কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে কাজ করে। ফরাসি কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা ইতিহাসের গবেষণায় দেখা যায়, ভাষা-সংস্কৃতি কেন্দ্র, গবেষণা ফেলোশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংযোগের মাধ্যমে বিদেশি ছাত্রদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি হয়।
গ্যেটে ইনস্টিটিউট জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি প্রচারের পাশাপাশি এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক নেটওয়ার্ক তৈরি করে। শীতল যুদ্ধের সময় পশ্চিম জার্মান কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক পূর্ব ইউরোপ ও তৃতীয় বিশ্বের ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন এজেন্সির অধীনে ঢাকার ইউএস কালচারাল সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভাষা শিক্ষা, লাইব্রেরি, বক্তৃতা ও স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালাত। একই নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ফুলব্রাইট প্রোগ্রাম তৈরি হয়, যা মার্কিন নীতি-প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় সোভিয়েত কালচারাল সেন্টার বিদেশে রুশ ভাষা, বিজ্ঞান ও সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রচার করত। অনেক ছাত্রকে মস্কো বা লেনিনগ্রাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে বৃত্তি দেওয়া হতো, যা সোভিয়েত প্রভাব বিস্তারের একটি বড় মাধ্যম ছিল।
ব্যাংকক: দক্ষিণ এশিয়ার কাসাব্লাঙ্কা
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের জন্য ব্যাংকক এমন এক শহর, যেখানে বিদেশি কূটনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সামরিক কর্মকর্তারা সহজে দেখা করতে পারেন। অনেকটা সিনেমার কাসাব্লাঙ্কা শহরের মতো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেখানে নানা পক্ষ গোপনে যোগাযোগ করত।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকে থাইল্যান্ডে মার্কিন গোয়েন্দা উপস্থিতি খুব শক্তিশালী ছিল। জেরি ড্যানিয়েলস লাওসের হমং জেনারেলদের সঙ্গে কাজ করতেন থাইল্যান্ড থেকে পরিচালিত সিআইএ অপারেশনে।
২০০২ সালে থাইল্যান্ডে একটি গোপন সিআইএ কারাগার চালু ছিল বলে পরে প্রকাশ পায়। এই কেন্দ্রের কোডনাম ছিল ‘ডিটেনশন সাইট গ্রিন’ বা ‘ক্যাটস আই’। এখানে বন্দিদের ওপর ওয়াটারবোর্ডিং করা হয়েছিল। এই কেন্দ্রের প্রধান ছিলেন পরবর্তীতে সিআইএ পরিচালক হওয়া জিনা হ্যাস্পেল।
যুক্তরাষ্ট্র ও থাই সামরিক-গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চলছে। মার্কিন সেনেট রিপোর্ট অনুযায়ী, সিআইএ থাইল্যান্ডকে বেছে নেওয়ার কারণ ছিল থাই গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এই কারণে অনেক বিশ্লেষক ব্যাংকককে ‘দক্ষিণ এশিয়ান কাসাব্লাঙ্কা’ বলে থাকেন—একটি শহর যেখানে রাজনীতি, গোয়েন্দা কাজ, মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এক জায়গায় মিলিত হয়।
খোন্দকার মোশতাক আহমেদ ও সিআইএ-সংযোগ
মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুল্টজ, যিনি ১৯৭০-এর দশকে ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ-এর দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ছিলেন, প্রকাশ করেছেন যে তার প্রধান সূত্রগুলোর একটি, যা অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সিআইএ-র সম্পর্কের অভিযোগ এনেছিল, ছিলেন বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইউজিন বস্টার।
বস্টার মৃত্যুর পর লিফশুল্টজ প্রকাশ করেন যে ১৯৭৭ সালে দূতাবাস তাকে এবং তার সহকর্মী মার্কিন লেখক কাই বার্ড-কে জানিয়েছিল, ১৯৭৫-এর অভ্যুত্থানের ছয় মাস আগে থেকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা খোন্দকার মোশতাক আহমেদের দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। বস্টার নিজে আদেশ দিয়েছিলেন খোন্দকার ও তার দলের সঙ্গে সব সংযোগ কেটে দিতে, কিন্তু তার অজান্তেই খোন্দকারের সহযোগীদের সঙ্গে দূতাবাসের গোয়েন্দাদের সংযোগ চলতে থাকে অভ্যুত্থানের দিন পর্যন্ত।
লিফশুল্টজ ও বার্ডের বই ‘বাংলাদেশ: দি আনফিনিশড রেভলিউশন’-এ বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে খোন্দকারের হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের তথ্য বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের সহকর্মীরা আবিষ্কার করেছিল, এবং এর ফলে তাকে কলকাতায় গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল। চার বছর পরে খোন্দকার মুজিবের মন্ত্রিসভায় থাকাকালে সেনা অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি হন এবং মুজিব হত্যাকারীদের প্রতি ক্ষমা ও দায়মুক্তি প্রদান করেন।
১৯৭৫-এর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা অফিসাররা ও ব্যাংকক গমন
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডে মধ্যম স্তরের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা সরাসরি অংশ নেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সৈয়দ ফারুক রহমান, খোন্দকার আবদূর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, আবদুল আজিজ পাশা, বজলুল হুদা, রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, শরফুল হোসেন, মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান, আবদুল মাজিদ ও কিসমত হোসেন। নেতৃত্বে ছিলেন ফারুক রহমান এবং আবদূর রশীদ।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানের সময় মুজিব হত্যাকারী অফিসারদের বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একটি বিশেষ বিমানে তাদের পরিবারসহ ব্যাংকক পাঠানো হয়। ওই ফ্লাইটে প্রায় ১৭ জন সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার ছিল।
ব্যাংককে পৌঁছে তারা মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা অনুযায়ী: ফারুক রহমান ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফোন করেন। তিনি জানান যে তারা বাংলাদেশ থেকে বিশেষ ফ্লাইটে এসেছেন এবং আশ্রয় চাইতে পারেন।
লরেন্স লিফশুল্টজের তথ্য অনুযায়ী, ক্যু হওয়ার আগে থেকেই কিছু সেনাকর্তা মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ফারুক রহমান ১৯৭৩-৭৪ সালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে জানতে চেয়েছিলেন সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী হবে। একইভাবে খোন্দকার আবদূর রশীদ অস্ত্র কেনার তথ্য জানতে গিয়েছিলেন।
মাহফুজ আনাম: মিডিয়া ও গোয়েন্দা-সংযোগ
বর্তমানে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ১৯৭৭-১৯৯০ সময়কালে ইউনেস্কোর মিডিয়া কর্মকর্তা হিসেবে প্যারিস, নিউইয়র্ক ও ব্যাংককে কাজ করেন। ব্যাংককে থাকার সময় তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি সংবাদপত্র শুরু করার পরিকল্পনা করেন। এতে সহযোগী ছিলেন ব্যাংকক পোস্টের সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী।
পরে এতে ট্রান্সকমের কর্ণধার লতিফুর রহমান, এ এস মাহমুদ ও রওফ চৌধুরী বিনিয়োগ করেন। পুরো ব্যাপারটা ঘটে এরশাদের সময়ে। পরবর্তী সময়ে মাহফুজ আনাম নিজে স্বীকার করেন যে তিনি Directorate General of Forces Intelligence (DGFI) -এর দেওয়া তথ্য সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করেছিলেন।
সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে বিভিন্ন সময় সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে মিডিয়া ও এনজিও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ‘বিরাজনীতিকরণ’ করার একটি প্রবণতা তৈরি হয় এবং মাহফুজ আনাম তাতে ভূমিকা রাখেন।
জাসদ, ৭ নভেম্বর ও সিরাজুল আলম খান
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এবং তাদের সামরিক সংগঠন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের ঘটনায় সক্রিয় ছিল। প্রধান নেতারা ছিলেন সিরাজুল আলম খান, কর্নেল আবু তাহের, আবদুর রব, মেজর জলিল ও হাসানুল হক ইনু। লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর ভেতরে ‘সৈনিক-জনতার বিপ্লব’ ঘটানো। এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতা অভ্যুত্থানে গিয়ে পৌঁছায়।
এই ঘটনায় খালেদ মোশাররফ নিহত হন, জিয়াউর রহমান মুক্ত হন, ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যায়। পরে সামরিক আদালত কর্নেল তাহেরকে ফাঁসির দণ্ড দেয় এবং তা কার্যকর করে।
সিরাজুল আলম খান ‘স্পাই’—এই ধারণার উৎস
সিরাজুল আলম খান ‘স্পাই’ হতে পারেন—এই কথাটি মূলত তিন ধরনের লেখালেখি থেকে এসেছে। এগুলোর বেশিরভাগই অভিযোগ বা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা, প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ নয়।
প্রথম উৎস রাজনৈতিক স্মৃতিকথা ও বিশ্লেষণ। কিছু লেখক বলেছেন, সিরাজুল আলম খান খুব অল্প বয়সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির ভেতরে ‘নিউক্লিয়াস’ বা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। এই সংগঠনটি ১৯৬০-এর দশকে গোপনে কাজ করত এবং পরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব বাহিনী তৈরির পেছনে ভূমিকা রাখে। এত গোপন কাঠামো ও ‘সেল বেইজড অর্গানাইজেশন’ থাকার কারণে অনেকে তাকে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মতো ভাবতেন।
দ্বিতীয় উৎস শীতল যুদ্ধের সময়কার ভূরাজনৈতিক ব্যাখ্যা। কিছু রাজনৈতিক লেখক ও ব্লগার দাবি করেছেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) বা তাদের প্রতিষ্ঠাতা রামেশ্বর নাথ কাও পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররাজনীতির কিছু নেতাকে প্রভাবিত করেছিলেন। এই ধরনের লেখায় বলা হয়, সিরাজুল আলম খান সেই প্রভাবের মধ্যে ছিলেন। তবে এই দাবি সাধারণত মতামতধর্মী লেখা বা রাজনৈতিক বিতর্কে দেখা যায়, প্রমাণিত ঐতিহাসিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তৃতীয় উৎস বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ। জাসদ রাজনীতির বিরোধীরা প্রায়ই বলেছেন, ১৯৭২-৭৫ সালে জাসদের গোপন সামরিক সংগঠন সেনাবাহিনীর ভেতরে বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছিল এবং সেই কাঠামো অনেকটা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মতো ছিল। এই প্রেক্ষাপটে সিরাজুল আলম খানকে ‘শ্যাডো স্ট্র্যাটেজিস্ট’ বা ‘ইনভিজিবল অর্গানাইজার’ বলা হয়েছে।
তবে ইতিহাসবিদদের মূলধারার গবেষণায় তাকে সাধারণত রাজনৈতিক সংগঠক এবং তাত্ত্বিক হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়। আবদুর রব তাকে স্বাধীনতার পরিকল্পনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
অর্থাৎ ‘স্পাই’ বলার ধারণাটি মূলত তিন জায়গা থেকে এসেছে: গোপন সংগঠন তৈরি করা, শীতল যুদ্ধের সময় ভারত বা অন্য শক্তির প্রভাব নিয়ে, এবং জাসদ-বিরোধী রাজনৈতিক প্রচার। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো স্বীকৃত ঐতিহাসিক নথি নেই যা প্রমাণ করে যে সিরাজুল আলম খান সত্যিই কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট ছিলেন।
সিরাজুল আলম খান ও ফরহাদ মজহার: একটি তুলনা
সিরাজুল আলম খান রাজনীতি শুরু করেছিলেন পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভেতরে। ষাটের দশকে তিনি গোপন ছাত্র নেটওয়ার্ক তৈরি করেন, যাকে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা ‘নিউক্লিয়াস’ বলা হয়। এই সংগঠনটি আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনীতির বাইরে থেকে স্বাধীনতার ধারণা প্রস্তুত করছিল। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় এই নেটওয়ার্ক থেকে মুজিব বাহিনী গঠনের প্রক্রিয়া বের হয়। স্বাধীনতার পর তিনি বামপন্থী রাজনীতিতে চলে যান।
ফরহাদ মজহার সত্তর-আশির দশকে বামপন্থী রাজনীতি ও সাহিত্য দিয়ে পরিচিত হন। পরে তিনি বাম রাজনীতির বাইরে গিয়ে ইসলামী ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। তার চিন্তাধারা প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ নামের বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ইতিহাস, রাষ্ট্র ও সভ্যতা নিয়ে বিকল্প ব্যাখ্যা প্রচার করা হয়।
এই দুই ব্যক্তির কাজের পদ্ধতিতে কিছু মিল দেখা যায়। দুজনেই সরাসরি দলীয় রাজনীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক বা গোপন সংগঠনধর্মী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তরুণদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। দুজনের ক্ষেত্রেই ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে একটি ছোট কিন্তু নিবিড় ক্যাডার গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যায়।
কিন্তু তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান আলাদা। সিরাজুল আলম খান কাজ করেছিলেন পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভেতরে, নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রকল্পে। তার সংগঠনধর্মী রাজনীতি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে ফরহাদ মজহারের কাজ হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। তার আলোচনায় ১৯৪৭-এর বিভাজনকে অনেক সময় বড় সভ্যতাগত মোড় হিসেবে দেখা হয় এবং ১৯৭১-এর জাতীয়তাবাদী বয়ানের সমালোচনাও দেখা যায়।
ফরহাদ মজহারের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা ও পাকিস্তানি বয়ান
ফরহাদ মজহারের লেখালেখি ও আলোচনা থেকে যে বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা তৈরি হয়েছে, কিছু সমালোচকের মতে তা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বয়ানকে কয়েকভাবে সুবিধা দেয়।
প্রথমত, তার আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে ১৯৪৭-এর গুরুত্বকে বেশি তুলে ধরা হয় এবং ১৯৭১-এর জাতীয়তাবাদী বয়ানকে সমালোচনার মধ্যে আনা হয়। এতে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক অবস্থান শক্তিশালী হয়, যেখানে উপমহাদেশের প্রধান রাজনৈতিক বিভাজন হিসেবে ১৯৪৭-কে দেখানো হয়।
দ্বিতীয়ত, এতে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের একটি কূটনৈতিক বয়ান সুবিধা পায়, যে বাংলাদেশ মূলত ভারতের ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনার ফল। যদি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ভারত-সমর্থিত দিকটিকে বেশি জোর দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে পাকিস্তানের সেই বক্তব্য শক্তি পায় যে ভারত আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিভাজন তৈরি করে।
তৃতীয়ত, এই ধরনের আলোচনায় ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক ভাষা শক্তিশালী হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাবকে প্রশ্ন করা বা সমালোচনা করা পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা বয়ানের সঙ্গে মিলে যায়। পাকিস্তানের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামো, বিশেষ করে আইএসআই, দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক রাজনীতিতে এই ধরনের বয়ান ব্যবহার করে থাকে।
বাংলাদেশে সক্রিয় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা
বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুযায়ী বাংলাদেশে কিছু বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা বেশি।
প্রথমত, চীনা গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক (এমএসএস)। মিয়ানমার ঘটনাবলী, বাংলাদেশের তিন দিকে ভারতের সাথে সীমান্ত থাকার কারণে চীনের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক। ১৯৭১-এ পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে এবং ভারতের সাথে বৈরিতার কারণে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সমর্থন করেনি। পরবর্তীতে আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলেও এখানে চীনের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের প্রাবল্য অনুমেয়। চীন-পন্থী বুদ্ধিজীবী বলে যারা পরিচিত, তারা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিভিন্ন স্তরে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের প্রক্সি অনুপ্রবেশে চীন এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং এনএসএ। তারা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারসাম্য বজায় রাখা এবং চীনা প্রভাব ও মিয়ানমারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। বিশেষ করে মিয়ানমারে সামরিক সহিংসতা, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা মার্কিন নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী গোয়েন্দা সংস্থা ব্রিটিশ এমআই৬ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিদ্রোহী নেটওয়ার্ক এবং জঙ্গি চলাচল পর্যবেক্ষণ করে। আফগানিস্তানে ব্র্যাক-সহ আরো প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, যার বিস্তারিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ সংসদে। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের এনজিও পরিসরের আড়ালে দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক কাজ করছে। উল্লেখ্য, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ফজলে আবেদ একদিকে ব্রিটিশ নাইটহুড পেয়েছেন, অন্যদিকে আফগানিস্তানে কথিত উন্নয়নের সবচেয়ে বড় মার্কিন তহবিলগুলো পেয়েছিলেন ব্রিটিশ সরকারের মাধ্যমে।
তৃতীয়ত, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (র)। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সীমান্ত পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের অবস্থা, বনাঞ্চল ও স্থানীয় উগ্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক মনিটর করে।
চতুর্থত, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং পাকিস্তানের পক্ষের-বিপক্ষের কর্মকাণ্ডে নজর রাখে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের ভেতরের বিভাজন বা নতুন গঠিত বুদ্ধিবৃত্তিক নেটওয়ার্কের ওপর তারা নজর রাখে।
এছাড়া ডিজিএফআই নিজ দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিদেশি সংস্থার সম্ভাব্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে।
সোভিয়েতের পতনের পর অনেক দেশে রুশ গোয়েন্দাদের নেটওয়ার্ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। এই নেটওয়ার্কে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টি, তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা ভূমিকা রাখত। সেগুলো এখন যথেষ্ট কমে গেছে। উল্লেখ্য, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ছিলেন সিপিবির একতা পত্রিকার সম্পাদক এবং প্রায়ই বিভিন্ন উপলক্ষ্যে রাশিয়া যেতেন।
অধ্যাপক ইউনূসের দেড় বছর
অধ্যাপক ড. ইউনূসের সরকারের সময়ও এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, যা মূলত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনীতি ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগের ওপর ভিত্তি করে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, সরকার মূলত মার্কিন ও পাকিস্তানি স্বার্থের দিকে বেশি নজর দিচ্ছিল। কিছু বিশ্লেষক দেখেছেন, বৈদেশিক নীতি এবং প্রকল্প নির্বাচনগুলো এই দুই দেশের প্রভাব ও আগ্রহকে সমর্থন করছিল। যেমন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রোগ্রামগুলো প্রাধান্য পেয়েছে, যেখানে মার্কিন নীতি-সংক্রান্ত দিকগুলো বেশি প্রতিফলিত হয়েছে।
এর সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ওই সময়ে বিশ্বের বড় নেতা এবং রাষ্ট্রপ্রধানরা সরাসরি ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেননি, যা অনেকের কাছে বোঝায় যে তার সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্যের জায়গায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল।
নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যিনি নির্বাচিত না হয়েও বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ধরনের কনসালট্যান্ট ব্যবস্থা অনেক সময় বিদেশি নীতি ও নজরদারি সংস্থার সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সাংবিধানিক সংস্কার। ড. ইউনূস যে আলী রিয়াজকে সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। সংবিধান সংস্কারকালে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্রিফিং দিয়েছেন। এটি বোঝায় যে সংবিধান ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপরও বিদেশি নজরদারি ও পরামর্শ বজায় ছিল।
এভাবে অধ্যাপক ইউনূসের প্রশাসনের কাঠামো, সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া এবং বিদেশি সংযোগ—সব মিলিয়ে এক ধরনের বিদেশি প্রভাবিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিলে যাওয়া হিসেবে দেখা যায়।
কাসাব্লাঙ্কা (১৯৪২): সিনেমা ও বাস্তবের প্রতিচ্ছবি
সিনেমার প্রধান চরিত্র রিক ব্লেইন, যিনি বার মালিক হিসেবে বাইরের চোখে নিঃসঙ্গ ও নিরপেক্ষ মনে হলেও ভিতরে তিনি তথ্য, নেটওয়ার্ক এবং শরণার্থীদের নিরাপদ পথে পাঠানোর দায়িত্বে যুক্ত। তার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় মতিউর রহমান, ফরহাদ মজহার, মাহফুজ আনাম এবং তাদের অনুসারীদের ক্ষেত্রে, যারা নিজ নিজ বুদ্ধিবৃত্তিক বা মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অন্যদের হয়ে তথ্য ও প্রভাব বিস্তারের কাজ করছেন।
ইলসা লুন্ড ও ভিক্টর লাজলো চরিত্র দিয়ে বোঝানো যায়, কখনো কখনো শিক্ষক, গবেষক বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বাইরের স্বচ্ছ দিক দেখালেও বাস্তবে তারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা বিদেশি স্বার্থের সঙ্গে সংযুক্ত নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে কাজ করেন, যেমন ড. ইউনূস প্রশাসনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
সিনেমার মূল থিম ‘দেখতে যা মনে হয়, তা সবসময় সত্য নয়’—স্পাই কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একাডেমিক, মিডিয়া বা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ভেতরের কাজ প্রায়ই বাইরের দৃশ্যমানতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকে। এই দ্বৈত ভূমিকা অনেক সময় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হ্যান্ডলারদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে। এই প্রক্রিয়া ভাঙতে ব্যবহার করা হয় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স। সে ব্যাপারে আরেক দিন।
জুলেখা সিরাপ মেটাভার্স প্রতিবেদন
গবেষণা: নওরোজ দৌলা, অন্তরা মেহজাবিন, শাহাদাত মুনশি
উপদেষ্টা: চয়ন খায়রুল হাবিব, তৃণা রাব্বানি
মন্তব্য ফিড 0
ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটিতে যোগ দিন
কথোপকথনে অংশ নিতে এবং আপনার মতামত শেয়ার করতে লগইন করুন।
রিভিউ করতে লগইন